জঙ্গল ছলিমপুরে সাড়ে ৩ হাজার বাহিনীর চিরুনি অভিযান: ১৫ সন্ত্রাসী আটক
- ডেস্ক রিপোর্ট:
- 09 Mar, 2026
চট্টগ্রাম মহানগরী সংলগ্ন সীতাকুণ্ডের জঙ্গল ছলিমপুর—যা গত কয়েক দশক ধরে অপরাধী ও ভূমিদস্যুদের এক ‘দুর্ভেদ্য সাম্রাজ্য’ হিসেবে পরিচিত। এই অভয়ারণ্যে সন্ত্রাসীদের আধিপত্য খর্ব করতে সোমবার ভোর থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত এক বিশাল সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
ডগ স্কোয়াড, এপিসি এবং সাঁজোয়া যানসহ প্রায় সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি সদস্য এই অভিযানে অংশ নেন। অভিযানে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করা সম্ভব না হলেও ঘটনাস্থল থেকে ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে।
গত ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল ছলিমপুরে অভিযান চলাকালে সন্ত্রাসী হামলায় র্যাব-৭ এর নায়েক সুবেদার মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হওয়ার পর থেকেই এলাকাটি প্রশাসনের বিশেষ নজরদারিতে ছিল।
সোমবারের অভিযানে সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশের বিশাল বহর পুরো এলাকাটি নিশ্চিদ্র নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয়। অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হাসান জানান, সন্ত্রাসীরা অভিযান ব্যর্থ করতে রাস্তায় নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং নিজস্ব নজরদারি ব্যবস্থা (সিসিটিভি) ব্যবহার করলেও বাহিনীগুলো সফলভাবে এলাকাটি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
৩০০০ কোটি টাকার দখল বাণিজ্য ও ‘আলাদা দেশ’
প্রশাসনের তথ্যমতে, প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর খাস জমির ওপর গড়ে ওঠা এই এলাকাটি যেন ‘দেশের ভেতর আরেক দেশ’।
ভৌগোলিক দুর্গমতা এবং রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় এখানে সরকারি আইনের চেয়ে সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যুদের নিয়মই বেশি কার্যকর।
প্লট বাণিজ্য: 'ছিন্নমূল সমবায় সমিতি' এবং 'আলীনগর বহুমুখী সমবায় সমিতি'র নামে পাহাড় কেটে ৩০ হাজারেরও বেশি অবৈধ বসতি স্থাপন করা হয়েছে।
অর্থনৈতিক প্রভাব: প্রশাসনের দাবি, বর্তমানে এই বিশাল দখলি বাণিজ্যের বাজারমূল্য প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
রাজনৈতিক পট পরিবর্তন ও পুনরায় দখলদারিত্ব
২০২২ সালে একবার উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে এলাকাটিকে মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর স্থানীয় সন্ত্রাসীরা আবারও এলাকাটি দখলে নেয়। গত কয়েক মাসে এখানে একাধিক সংঘর্ষ ও খুনের ঘটনা ঘটে, যা এলাকাটিকে পুনরায় এক অস্থির জনপদে পরিণত করে।
মাস্টারপ্ল্যান ও স্থায়ী নিরাপত্তা
অভিযান শেষে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জঙ্গল ছলিমপুরকে ঘিরে সরকারের গৃহীত ‘মাস্টারপ্ল্যান’ এখন থেকে কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। এই পরিকল্পনার আওতায় রয়েছে:
* চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তর।
* স্পোর্টস ভিলেজ ও আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণ।
* আইকনিক মসজিদ, চিড়িয়াখানা ও ইকো পার্ক প্রতিষ্ঠা।
সন্ত্রাসীদের বিচরণ বন্ধ করতে পাহাড়ের কৌশলগত পয়েন্টগুলোতে র্যাব ও পুলিশের দুটি স্থায়ী চেকপোস্ট ও ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। প্রশাসন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, জঙ্গল ছলিমপুরকে আর কোনোভাবেই অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হতে দেওয়া হবে না।
Leave a Reply
Your email address will not be published. Required fields are marked *

